• প্রচ্ছদ » » অদম্য বাংলাদেশ, অদম্য শেখ হাসিনা


অদম্য বাংলাদেশ, অদম্য শেখ হাসিনা

আমাদের নতুন সময় : 09/05/2021

মোহাম্মদ এ আরাফাত : ৫০ বছরে বাংলাদেশ-এটি একটি অবান্তর ও ভিত্তিহীন কথা। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত হয়নি। স্বৈরশাসক ও সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ২৮ বছর ব্যাহত করেছে। বিভিন্নভাবে স¦াধীনতাবিরোধী অপশক্তি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গত ৫০ বছরে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে। যে কারণে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতেও সংখ্যলঘুদের ওপর হামলা হয়। শুধু ভূমি, মানুষ, গাছ, সীমানা দিয়ে একটি দেশকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। ২৮ বছর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছিলো না। এটা ছিলো পাকিস্তান। ঐক্যর রাজনীতি সম্ভব নয়। এখনো বাংলাদেশের ভেতরে পাকিস্তান বসে আছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বাড়ি-ঘর পুরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের প্রকৃত চেহারা নয়। রাজাকার শাবকরা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় পরিচালিত করতে চায়।
নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রদায়িক। আমরা সব সময় সাম্প্রদায়িকতার বিপক্ষে। কিন্তু যারা মোদীবিরোধী আন্দোলন করে তারা আরও বেশি সাম্প্রদায়িক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে না হয় বাদ দিলাম, যারা তাকে সাহয্য-সহযোগিতা করে তারা সবাই জামায়াত-শিবির ও সাম্প্রদায়িক। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর কিছু দিন আগে বলেছে, ‘মোদী ভারতকে হিন্দু পাকিস্তান বানিয়ে ফেলছে’। এ কথার অর্থ তো বাংলাদেশের সম্প্রদায়িক শক্তি বোঝে না। এরা নিজেরাই একেকজন মোদী। মোদীর সমর্থন নিয়ে এরা মোদির বিরোধিতা করছে। এটা হচ্ছে ভন্ডামি। এই ভন্ডামির মূল শিকড়ে আঘাত করতে হবে। তাহলে এসব অত্যাচার বন্ধ হবে।
দুয়েকজনকে ধরে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে সাম্প্রদায়িকতাকে পরাজিত করা হয়েছিলো, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সামরিক শাসকরা সেটাকে পুনরুজ্জীবিত করে বাংলাদেশকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। যার কারণে আওয়ামী লীগ গত ১০-১২ বছর যাবৎ কাজ করেও কোনো কূল-কিনারা করতে পারছে না। একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই চলছে। সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। পাকিস্তান কেবল একটা দেশ না, এটি একটি চেতনা। যে দ্বি-জাতি ত্বত্ত্বের মাধ্যমে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিলো তাতে যারা বিশ্বাস করে তারাই পাকিস্তানি। সেই পাকিস্তানি চেতনার বিপক্ষে গিয়েই আমরা প্রগতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধান করেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে হবে। যারা গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান, কিন্তু অসম্প্রদায়িকতা চান না তাদের উদ্দেশ্য খারাপ। এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশের সবকিছুই ধ্বংস করে ফেলেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী অনেক সময় বুঝতে পারে না যে তারা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর খপ্পরে পড়েছে। সাম্প্রদায়িকতা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটা বিষয়। সরকার তাদের ফাঁদে পা দেবে না। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থেকে এ সাম্প্রদায়িকতা মোকাবেলা করতে হবে। ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িকতা সমূলে উৎপাটন করতে হবে। সব থেকে বড় সম্ভাবনার জায়গা হলো, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। ছোট-খাটো ভুল ও সমস্যা সব জায়গাতেই আছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের বিষয়গুলোতে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শত্রুদের মোকাবেলা করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। ভবিষতেও আওয়ামী লীগ সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে একটি অসাম্প্রদায়িক সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। পরিচিতি : চেয়ারম্যান, সুচিন্তা বাংলাদেশ। অনুলিখন : শাহিন হাওলাদার




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]