• প্রচ্ছদ » » আমাদের উন্নয়ন, আমাদের সম্ভাবনা এবং আমাদের চ্যালেঞ্জ


আমাদের উন্নয়ন, আমাদের সম্ভাবনা এবং আমাদের চ্যালেঞ্জ

আমাদের নতুন সময় : 09/05/2021

অধ্যাপক ড. অনুপম সেন : বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশকে পেয়েছিলেন সেটা ছিলো সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। এর অর্থনীতি বলতে কিছুই ছিলো না। পাকিস্তানের ২৩ বছর পূর্ব পাকিস্তান ছিলো পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পসামগ্রী বিক্রির একটা ক্ষেত্র। একটি ক্যাপটিভ মার্কেট। এখানে সবকিছু বিক্রি করা হতো। এখানে কিছুই গড়ে তুলতে দেওয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধু সেই বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি এক কোটি শরাণার্থীকে পুনর্বাসিত করেছিলেন। যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলো। দেশের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি লোক আবাসন হারিয়েছিলো বা নানাভাবে বিক্ষিপ্ত হয়েছিলো, তাদের তিনি পুনর্বাসিত করেছিলেন। হাজার হাজার কালবার্ট ধ্বংস করা ছিলো। কারণ পাকিস্তানিরা পোড়া মাটির নীতি গ্রহণ করেছিলো। সেগুলোকে তিনি পুনঃনির্মাণ করেছিলেন। ভৈরব ব্রিজ ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ তিনি অল্পসময়ের মধ্যে পুনঃনির্মাণ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরকে ডোবা জাহাজ থেকে মুক্ত করেন। এই সময় বিশ্ব জুড়েই অনেকগুলো অর্থনৈতিক বিপর্যয় এসেছিলো। আরব-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিলো। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশেও বড় ধরনের বন্যা হয়েছিলো। সবকিছু সামলে তিনি যখন দেশটাকে প্রায় দাঁড় করিয়েছিলেন। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের কৃষিকেও চূড়ান্তভাবে অবহেলা করেছিলো পাকিস্তানি শাসকচক্র, এদেশের জমি যথেষ্ট ঊর্বর থাকা সত্ত্বেও। পূর্ব পাকিস্তানে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করতে হতো। যখন বঙ্গবন্ধু ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে মুক্ত করে আনছেন। যখন শিল্পে প্রবৃদ্ধি শুরু হয়েছে ঠিক সেই সময় পাকিস্তানপন্থী দেশদ্রোহীরা তাকে সপরিবারে হত্যা করে। এরপরে ২১ বছর আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এদেশকে শাসন করেনি। ২১ বছর পর আবার বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা নির্বাচনে জয়লাভ করে দেশ শাসনের ভার পান । ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি নতুন ও বিরাট সম্ভাবনায় দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। আগে বাংলাদেশেকে প্রায় সব রকম শিল্প সামগ্রীর জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন বহু শিল্প সামগ্রী বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশ বহু শিল্প সামগ্রী সারা বিশ্বে রপ্তানিও করছে। ওষুধ রপ্তানি করছে, সিরামিক্স রপ্তানি করছে। জাহাজ শিল্পেও বাংলাদেশ অনেকখানি এগিয়েছে। এখন অনেককিছু বাংলাদেশ সারাবিশ্বে রপ্তানি করে। সারাবিশ্বেই বাংলাদেশের গার্মেন্টস প্রসিদ্ধি পেয়েছে। এই করোনা মহামারির সময়ও যেখানে ভারত, পাকিস্তানের নেগেটিভ গ্রোথ হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের গ্রোথ হলো ধনাত্মক, ঋণাত্মক নয়। বাংলাদেশে ৫ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এগুলো কখনোই হতো না যদি বাংলাদেশ স্বাধীন না হতো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন বাংলাদেশর প্রায় ৬০ শতাংশ লোক দারিদ্রসীমার নিচে ছিলো। বাংলাদেশের গ্রামগুলো ছিলো অন্ধকার। সেখানো কোনো বিদ্যুৎ ছিলো না। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসে তখন বাংলাদেশের বিদ্যুাতায়ন মাত্র ৪০ শতাংশের কিছু ওপরে ছিলো। আজকে তা ৯৫ শতাংশের ওপরে চলে গেছে। এই বিরাট অর্জন বাংলাদেশকে একটা অসামান্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে। তার মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি অনেক দূর এগিয়েছে। টট্টগ্রামে কর্নফুলী নদীর নিচে টানেল করে দুই নগর গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার হয়ে গুমদুম পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। রূপপুরে পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। ডেল্টা প্লান নেওয়া হয়েছে এই শতাব্দী শেষ করে। এগুলো সব সুদূরপ্রসারী, দেশাত্ববোধে উদ্বুদ্ধ দূরদর্শী পরিকল্পনা। সুতরাং বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার জন্য জনসাধারণকে দেশপ্রেমিক হতে হবে। নতুন যে প্রজন্ম ক্ষমতায় আসবে, যে প্রজন্মের হাতে আজ থেকে ২০-৩০ বছর পর বাংলাদেশ ন্যাস্ত হবে। এই প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক ও ত্যাগে উদ্ধুদ্ধ হতে হবে। দেশের বঞ্চিত মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করে এদেশেকে দারিদ্রমুক্ত করতে হবে। এদেশ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে। এদেশকে দারিদ্রমুক্ত, স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ, সংস্কৃতিসমৃদ্ধ ও শিক্ষাসমৃদ্ধ একটি দেশে রূপান্তর করতে হবে। পরিচিতি : শিক্ষাবিদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমিরুল ইসলাম




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]