• প্রচ্ছদ » » করোনা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে বাংলাদেশ


করোনা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে বাংলাদেশ

আমাদের নতুন সময় : 09/05/2021

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন : করোনা একটি অজানা ভাইরাস হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এর ভয়াবহতা মোকাবেলা করেছে। ইউরোপ, আমেরিকাসহ আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও করোনার থাবা থেকে রক্ষা পায়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নজরদারি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও যোগাযোগ রক্ষা এবং সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্বান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ এখনো ভ্যাকসিন পায়নি কিন্তু এশিয়ার একপ্রান্তের দেশ হয়েও প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বের কারণে টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক বিশে^ তার যোগাযোগের কারণে বাংলার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে যখন করোনা ভাইরাস প্রথম এসেছিলো তখন একটি গোষ্ঠী বলেছিলো বাংলাদেশ সরকার এ ভাইরাস মোকাবেলা করতে পারবে না। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সফলতা অর্জন করতে পারছে। ভ্যাকসিন সম্পর্কে কুচক্রী মহল বিভিন্ন রকম গুজব ছড়িয়েছিলো। তারা বলেছিলো এটা ভারতের ভ্যাকসিন। এ ভ্যাকসিনের কোনো কার্যকারিতা নেই। তাদের সব গুজব মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশে অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিন এসেছে এবং বাংলাদেশের মানুষ ভ্যাকসিন নিয়ে সুফল পাচ্ছে। প্রায় ৮০ লাখ মানুষ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়ে এখন দ্বিতীয় ডোজ নেওয়াও শুরু করেছে।
এই ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হলেই বাংলাদেশ পরিপূর্ণভাবে করোনা মোকাবেলায় সফলতা লাভ করবে। তবে এখন আবার করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদেশে থেকে আগত মানুষদের মাধ্যমে করোনার নতুন নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমদের এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সরকার এ ব্যাপারে সচেতন আছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ডাক্তারদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনেকেই করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে। প্রথম দিকে সবকিছুর অভাব থাকা স¦ত্তেও ডাক্তারা সেবা দেওয়া থেকে পিছু হটেনি। পিপিইর অভাবে রেইন কোট পড়ে ডাক্তারা কোরোনা মহামারিতে দায়িত্ব পালন করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তদারকির কারণে বাংলাদেশ অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর, আইসিইউর সমস্যা কাঁটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে। বর্তমানে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালের আইসিইউ খালি নেই। আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সমস্যা কাঁটিয়ে উঠতে পারবো।
দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় ডাক্তারা সবসময় এগিয়ে। ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। সব অর্জনেই ডাক্তারদের অবদান রয়েছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করে ডাক্তাররা ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামে ডাক্তারদের বলিষ্ঠ অবদান রয়েছে। ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। করোনা ভাইরাসের মহাসংকটে তারা বংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য ১২ লাখ ভ্যাকসিন নিয়ে এসেছিলেন। স¦াধীনতার ৫০ বছরে বিশেষ করে আওয়ামীলীগের আমলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। এক সময় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নাজুক ছিলো। এখন বাংলাদেশের মানুষ আন্তর্জাতিক মানের সেবা পাচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহসী সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো আছে এবং করোনা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে করোনা ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হলে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পরিচিতি : সভাপতি, বিএমএ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহিন হাওলাদার




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]