• প্রচ্ছদ » » খুবই আন্তরিকভাবে বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনা করি


খুবই আন্তরিকভাবে বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনা করি

আমাদের নতুন সময় : 09/05/2021

রিতা রয় মিঠু : আমি সারাক্ষণ কাজে ব্যস্ত থাকি, তাই দেশের রাজনীতি অর্থনীতি, ধর্মনীতি এবং করোনা পরিস্থিতির সংবাদ নিতে পারি না। বন্যা এই সংবাদ নেয় এবং আমাকে সারসংক্ষেপ জানায়। গত সপ্তাহ থেকে কাজের চাপ খুব বেশি থাকায় বন্যার সঙ্গেও কথা হচ্ছিলো না, দেশের খবরা খবর নেয়া হচ্ছিলো না। আজ সন্ধ্যায় বন্যার সঙ্গে কথা হচ্ছিলো। তখনই শুনলাম, পশ্চিমবঙ্গে করোনা নাকি দ্রæত ছড়াচ্ছে, প্রচুর মানুষ মারা গেছে। এই সংবাদে অবাক হইনি, এটা হওয়ার ছিলো। নির্বাচন নিয়ে মাস ব্যাপি যা চললো পশ্চিমবঙ্গে, করোনা কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? বন্যা আরও জানালো, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে, বিএনপি নেতারা চাইছেন নেত্রীকে বিদেশে নিয়ে যেতে। বেগম জিয়ার বয়স পঁচাত্তর, এই বয়সে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, হসপিটালে চিকিৎসাধীন আছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটা খুবই হতাশাজনক সংবাদ। এমনিতেই এই বয়সে দেহে কতো রকমের উপসর্গ দেখা দেয়! তার ওপর পুত্রশোক বুকে বয়ে চলেছেন, আরেক গুণধর পুত্রও ফেরারি হয়ে আছে। একজন মায়ের জন্য এ ব্যথা যে কী গভীর ব্যথা, মায়েরা ছাড়া আর কেউ বুঝবে না। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক চেলারাও বুঝবে না। আমার খুবই খারাপ লাগছে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির সংবাদ শুনে। এখন বিএনপি নেতারা তাদের নেত্রীকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাইছেন! এ কেমন চাওয়া। করোনা রোগীকে দেশের বাইরে নেয়া যায়? কোন্ দেশ গ্রহণ করবে? এমনিতেই প্লেনে ওঠার আগে করোনা টেস্ট নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখাতে হয়, তারপর ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন। এই অবস্থায় করোনা আক্রান্ত গুরুতর অসুস্থ বেগম জিয়াকে বিদেশ নেয়ার দাবি তোলার মধ্যে কোনো দুরভিসন্ধি নেই তো। বেগম জিয়ার অসুস্থতাকে ইস্যু করে জ্বালাও পোড়াও করার ইচ্ছে নেই তো। বেগম জিয়ার তো করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথা ছিলো না। বিরোধী দলে নেই, রাজনৈতিক আন্দোলনও নেই, তার ওপর তার বয়সও অনেক হয়েছে। এই করোনাকালে তো তার নিজের ঘরে নিরাপদে থাকার কথা ছিলো। বিএনপির নেতাদেরই তো উচিত ছিলো তাদের নেত্রীকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা। করোনা আক্রান্ত হতে হলে ব্যক্তিকে করোনা ভাইরাসের সংস্পর্শে আসতে হবে। হয় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি বাহিরে গিয়ে করোনার সংস্পর্শে আসে, নয়তো করোনা ভাইরাস বহনকারী ব্যক্তি করোনাকে ঘরে নিয়ে আসে। বেগম জিয়ার তো বাহিরে যাওয়ার অবস্থাও ছিলো না, বাহিরে যাওয়ার উপলক্ষও ছিলো না। করোনাকেই বেগম জিয়ার কাছে আসতে হয়েছে। কীভাবে আসলো করোনা? গৃহকর্মীর আঁচল ধরে? ড্রাইভারের শার্টের পকেটের মধ্যে করে? বেগম জিয়ার সেবা যে করে, সেই ফাতেমা তো সাধারণ বাড়ির বুয়াদের মতো হওয়ার কথা না। বেগম সাহেবার পরিচর্যাকারীও চালচলনে আচার আচরণে বেগম সাহেবার কায়দা রপ্ত করে ফেলে। তারা যখন তখন জলের কলসি কাঁখে রাস্তায় যায় না, পান খাবে বলে পানের দোকানে গিয়ে আড্ডা জমায় না। তাহলে করোনাভাইরাস বেগম জিয়ার ঘরে প্রবেশ করলো কীভাবে! তবে কী বিএনপির নেতাগণ এই করোনাকালেও নেত্রীর বাড়িতে সিংহাসন দখলের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতে যেতেন। নেত্রীও কী নিজের বয়সের কথা ভুলে, সিংহাসন দখলের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে খুব আগ্রহ বোধ করতেন। তার প্রশ্রয় না পেলে তো বাইরে থেকে একটা মশা বা মাছিও তার বাড়ির নিরাপত্তা ব্যুহ ভেদ করে প্রবেশ করতে পারতো না। খুবই আন্তরিকভাবে বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনা করি। বিএনপি নেতাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, এটাও কামনা করি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]