• প্রচ্ছদ » » তেলিয়ে আর ন্যাতানো ভাষায় কি কখনো কোনো প্রতিবাদ হতে পারে?


তেলিয়ে আর ন্যাতানো ভাষায় কি কখনো কোনো প্রতিবাদ হতে পারে?

আমাদের নতুন সময় : 09/05/2021

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন : কোষাধ্যক্ষ হিসেবে একজন আমলা নিয়োগ দিয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে প্রচÐ ক্ষোভ দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু সরকার দলীয় শিক্ষকদের মধ্য থেকে তেমন কোন প্রতিবাদ দেখি না। অথচ এই পদগুলো তারাই পাবে। সরকার দলীয় এই শিক্ষকরা তাদের সরকারের আমলে কোনো অন্যায়েরই তেমন কোনো প্রতিবাদ কখনো করেনি। মেট্রোরেল নিয়ে করেনি, সুন্দরবনে কয়লা বিদ্যুৎ নিয়ে করেনি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭টি রেস্তোরা বানানো আর গাছ কাটা নিয়েও বলেনি। শিক্ষা ও গবেষণায় নগণ্য বরাদ্দের কোনো প্রতিবাদ করেছে? অযোগ্য শিক্ষকদের ভিসি প্রোভিসি নিয়োগ এবং ততো পরবর্তী দুর্নীতি আর অনিয়মের প্রতিবাদ করেনি। সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিবাদের ঝড় দেখে শিক্ষক ফেডারেশনও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেই প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে আমাদের শিক্ষক নেতারা যে কতো মেরুদÐহীন তার প্রমাণও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন দিয়েছেন। এই প্রতিবাদলিপির ভাষা দেখলেই বোঝা মুশকিল এইটা প্রতিবাদলিপি নাকি তোষামোদলিপি। প্রতিবাদের ভাষা যে কতো মধুর হতে পারে তার সর্বশ্রেষ্ট উদাহরণ হিসাবে সংগ্রহে রাখার মতো। তেলিয়ে আর ন্যাতানো ভাষায় কী কখনো কোনো প্রতিবাদ হতে পারে? আজকে যে আমলা নিয়োগ নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে এর ফল কিন্তু সিরিয়ালে থাকা সরকারি দলের শিক্ষক নেতারাই পাবে। অথচ শিক্ষক রাজনীতি করার উদ্যেশ্য হওয়া উচিত ছিলো প্রশাসন সঠিক পথে রাখার জন্য ছায়া প্রশাসন। কিন্তু বর্তমানে দেখছি শিক্ষক রাজনীতির একমাত্র উদ্যেশ্য হলো ভাগ বাটোয়ারা অংশ কীভাবে পাওয়া যায় চাতক পাখির মতো সেই দিকে মুখিয়ে থাকা। সঠিক যোগ্য শিক্ষকরা যদি ভিসি প্রোভিসি আর কোষাধক্ষ্য হতো আর হওয়ার পর যোগ্যতার স্বক্ষর রাখতো তাহলে এইরকম নিয়োগ হতোই না। দেখেছেন তো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাÐ? সরকার কী এতো দিন যাবৎ দেখছিলো না? নিজের মেয়ের জামাইসহ অনেককে অন্যায়ভাবে নিয়োগ দিয়েছে। স্বয়ং ইউজিসি নাকি অনেক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। এতো কিছুর পরও তাকে পূর্ণ মেয়াদ থাকতে দেওয়া হলো কেন? কারণ হলো শিক্ষকরা ভিসি হলে কতো খারাপ করতে পারে তা দেখানো। এই দেখানোর মাধ্যমে আমলাদের পদায়নের জায়গা তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছিলো। আর কিছুদিন পরে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপে পিএইচডি করে এসে তারা ভিসি প্রোভিসিও হবে। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ভিসি প্রোভিসি আর কোষাধক্ষ্য যদি কেবল প্রশাসনিক কাজ করতো আর শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ যদি কার্রেসপন্ডিং বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ডিন করতো তাহলে এইসব পদের জন্য এতো দৌড়ঝাঁপ হতো না। ওসব দেশে ভিসি প্রোভিসির কোনো ক্ষমতাই নেই তাই কেউ তাদের তেমন চেনেও না। আর কোষাধ্যক্ষরতো ক্ষমতাই নেই। ক্ষমতাটা দুইয়েক জায়গায় কুক্ষিগত বলে সরকারের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণের চেইন ভাঙ্গতে হবে। ভিসি প্রোভিসিদের ক্ষমতা কমালে উচ্চ শিক্ষার অনেক জঞ্জাল কমে যাবে। শেষ কথা : বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ধ্বংসের মূল কারিগর হলো সরকার দলীয় শিক্ষক রাজনীতিবিদরা। সকল সরকারের আমলেই এটি সত্য।লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]