• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » [১]স্ত্রী হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই


[১]স্ত্রী হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই

আমাদের নতুন সময় : 13/05/2021

মাসুদ আলম, রাজু চৌধুরী: [২] বুধবার মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় স্বামী বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহান এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত রিমান্ডের প্রতিবেদন ১০ দিনের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দেন। [৩] চট্রগ্রাম পিবিআইয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলা বুধবার আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তদন্তে বাবুলের বিরুদ্ধে হত্যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পাঁচলাইশ থানায় মিতুর বাবার দায়েরকৃত হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে। বাবুলের কথিত প্রেমিকা এনজিও কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। [৪] বাবুলের আইনজীবী আরিফুর রহমান বলেন, বাবুল মামলার বাদী ছিলেন। পুলিশ যথাযথ তদন্ত না করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। উচ্চ আদালতে যাবেন তারা। [৫] এদিকে বুধবার মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। অন্য আসামিরা হলেন- কামরুল ইসলাম মুছা, কালু, ওয়াসিম, শাহজাহান, আনোয়ার, এহতেসামুল হক ভোলা ও সাকি।
[৫] মামলার এজাহারে বলা হয়, বাবুল আক্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কক্সবাজার জেলায় চাকরি করার সময় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআরের ফিল্ড অফিসার গায়েত্রী অমর সিংয়ের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে মিতু পারিবারিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বাবুল আক্তার পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় বাবুল তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
[৬] ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাবুল সুদানে জাতিসংঘের মিশনে ছিলেন। সুদানে যাওয়ার সময় বাবুল তার ব্যক্তিগত মোবাইলটি রেখে যান। ওই মোবাইলে গায়েত্রী ২৯ বার বিভিন্ন মেসেজ দেন। মিতু মেসেজগুলো নিজ হাতে একটি খাতায় লিখে রাখেন। সর্বশেষ মিতু হত্যার কয়েকমাস আগে বাবুল একটি ট্রেনিংয়ে থাকা অবস্থায় গায়েত্রী তার বাসায় দুইটি বই উপহার পাঠান। বই দুটির নাম-তালিবান ও বেস্ট কেপ্ট সিক্রেট। তালিবান বইটির ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় গায়েত্রী নিজ হাতে একটি বার্তা লিখে দেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমাদের ভালো স্মৃতিগুলোর অটুট রাখতে তোমার জন্য এই উপহার। আশা করি এই উপহার আমাদের বন্ধনকে চিরস্থায়ী করবে। ভালোবাসি তোমাকে, গায়েত্রী।’ একই বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় গায়েত্রী তাদের প্রথম দেখা, প্রথম একসঙ্গে কাজ করা, প্রথম কাছে আসা, মারমেইড হোটেলে ঘোরাফেরা, রামু মন্দিরে প্রার্থনা, রামুর রাবার বাগানে ঘোরাফেরা এবং চকরিয়ায় রাতে সমুদ্রের পাশ দিয়ে হাঁটা ইত্যাদি স্মৃতির কথা উল্লেখ ছিলো।
[৭] এছাড়াও বেস্ট কেপ্ট সিক্রেট নামের বইয়ের ২য় পাতায় গায়েত্রীর নিজ হাতে ‘তোমার ভালোবাসার গায়েত্রী (ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা)’। এসব ঘটনায় বাবুল ও মিতুর পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছে। বাবুলের এ ধরনের অনৈতিক কর্মকা-ের প্রতিবাদ করলে তিনি মিতুকে নির্যাতন করেন বলে মিতু মৃত্যুর আগে আমাদের জানান।
[৮] মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, গায়েত্রী ভারতীয় নাগরিক। তিনি বাংলাদেশ থেকে চলে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হোক। সম্পাদনা: তাপসী রাবেয়া




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]