• প্রচ্ছদ » » বিশ^জুড়ে যতো অশান্তি; যতো সন্ত্রাসী কর্মকাÐ দেখা যায় তার ৯৫ ভাগ দায় আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলোর


বিশ^জুড়ে যতো অশান্তি; যতো সন্ত্রাসী কর্মকাÐ দেখা যায় তার ৯৫ ভাগ দায় আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলোর

আমাদের নতুন সময় : 18/05/2021

আমিনুল ইসলাম : ১৫ তলা বিল্ডিং’টি মুহূর্তে মাটির সাথে মিশে গেল। আমরা পুরো পৃথিবীর মানুষ সেটা দেখতেও পেলাম। ৫ বছরের শিশু, ১২ বছরের বাচ্চা গুলোর মৃত দেহ বিমান হামলায় রাস্তায় পড়ে আছে। প্রকাশ্যে বলতে শুনা যাচ্ছে- ‘আমি যদি তোমার বাড়ি-ঘর দখল নাও করি; অন্য কেউ এসে করবে।’ এই হচ্ছে ইসরায়েলের করা বর্তমান সন্ত্রাসী কর্মকাÐ ফিলিস্তিনিদের ওপর। আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এসে গতকাল বলেছে – হামাস’কে সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করতে হবে। মানে হচ্ছে- ইসরাইল ধোঁয়া তুলসি পাতা। পৃথিবী জুড়ে যতো অশান্তি; যতো সন্ত্রাসী কর্মকাÐ দেখা যায় তার ৯৫ ভাগ দায় আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশ গুলোর। টুইন টাওয়ার ধ্বংসের উছিলায় তারা আফগানিস্তানে হামলা করেছিলো। আজ পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে পারেনি- ওই টাওয়ারে আসলে কারা হামলা করেছিল। এখন পশ্চিমা গণমাধ্যম গুলো ইসরাইলের জন্য নতুন ন্যারেটিভ নিয়ে হাজির হয়েছে এবং আমরা সবাই মনের আনন্দে সেই ন্যারেটিভ গিলছি। তারা এখন বলছে- হামাস নাকি হাজারে হাজারে রকেট ইসরাইলে ছুড়ে মারছে। বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর আমরাও মনের আনন্দে গিলছি সে গুলো! বলে বেড়াচ্ছি- অমুক রকেট ইসরাইলে গিয়ে পড়েছে ইত্যাদি। তারা তো এটাই চায়। এতে করে গাজায় তারা বিমান হামলা করার লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে তাদের সেনাবাহিনী আরো একটু ভূমি দখল করে নিতে পারছে। এই সামান্য বিষয়টা বুঝার জন্য কী বিজ্ঞানী হবার দরকার হয়? হামাস কিংবা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কি ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করা সম্ভব? ইসরাইল হচ্ছে পুরো পৃথিবী ৫ টি শক্তিশালী রাষ্ট্র গুলোর একটি। যেই প্রযুক্তি আমেরিকার কাছে নেই, সেই প্রযুক্তি এমনকি ইসরাইলের কাছে আছে। এটা হচ্ছে অনেকটা এমন- আপনি দা-বটি নিয়ে বিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন। যাদের কিনা পৃথিবীর সব চাইতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে বিমান বাহিনী, সেনা বাহিনী সব আছে। অথচ পশ্চিমা গণমাধ্যম গুলো কি চমৎকার করেই না ইসরাইলের পক্ষ ন্যরেটিভ গুলো তৈরি করছে। আর এতে কারা সাহায্য করছে জানেন? সৌদিআরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের গণমাধ্যম গুলো। তারা দিন রাত ইসরাইলের হয়ে ন্যারেটিভ তৈরি করছে।
সেই সঙ্গে পশ্চিমা গণমাধ্যম গুলো তো আছেই। আর আপনারা ভাবছেন- এটা মুসলিম এবং ইহুদীদের দ্ব›দ্ব। এটি কোনো ধর্মীয় দ্ব›দ্ব নয়। এটি হচ্ছে স্বার্থের দ্ব›দ্ব। আমার তো এমন বন্ধুও আছে, যে কিনা ইসরাইলি কিন্তু মুসলিম। আমাদের অনেকেরই আসলে জানা নেই ইসরাইলে হাজার হাজার মুসলিম থাকে। তারাও ইসরাইলি। ইহুদী এবং মুসলিমরা এই ভূখÐে আজ থেকে থাকে না। তারা থাকে সেই ওল্ড টেস্টামিন (মানে পুরোনো বাইবেল) যুগ থেকে। তাহলে কীভাবে পুরো পৃথিবী জুড়ে ন্যারেটিভ তৈরি হলো- এটা ইহুদী এবং মুসলিমদের দ্ব›দ্ব? পশ্চিমারা, বিশেষ করে আমেরিকা তাদের প্রয়োজনেই এই ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। মধ্য প্রাচ্যে যেন তারা তাদের শক্তি বজায় রাখতে পারে। আর মুসলিম দেশ গুলো সেই ন্যারেটিভ মনের আনন্দে গিলে চলেছে। তাদের গণমাধ্যম গুলো কীভাবে শিরোনাম করছে এখন জানেন?-’ হামাস এবং ইসরাইলের মাঝে দ্ব›দ্ব চরমের’ ভাবখানা এমন- আপনি ছুরি-কাঁচি নিয়ে স্কাড ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে দ্ব›েদ্ব লিপ্ত হয়েছেন। আপনি এখনই গিয়ে পশ্চিমা কোনো গণমাধ্যম কিংবা সৌদি আরবের কোনো গণমাধ্যম গুলে পড়েন- দেখবেন শিরোনাম গুলো এমন করেই করা। অথচ হামাস কিংবা ফিলিস্তিনের সেই শক্তিই নেই।
এরপরও তারা এমন ন্যারেটিভ তৈরি করেই চলেছে। তো কেন করছে? দেখুন গতকাল থেকে সৌদি এবং পশ্চিমা গণমাধ্যম গুলো তাদের সংবাদে ভিন্নতা এনেছে। এখন তারা লিখছে- হামাসের রকেট গুলো কি করে এতো দূর পর্যন্ত যেতে পারছে? নিশ্চয় তারা ইরানের কাছ থেকে এইসব পাচ্ছে। অর্থাৎ ইরানের হামলা চালানোর একটা ন্যরেটিভ তারা এর মাঝেই তৈরি করার চেষ্টা করছে। সেই ন্যরেটিভ গুলো যাতে সঠিক পথেই থাকে, এই জন্য তাদের যা যা করার দরকার সেটাই তারা করছে। যে সংবাদ মাধ্যম গুলো পশ্চিমা ন্যারেটিভ গ্রহণ না করে গাজায় সত্যি সত্যি ইসরাইলিরা কীভাবে হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে; সেই সংবাদ গুলো প্রচার করছিল; ইসরাইল তাদের পুরো ভবনই গুড়িয়ে দিয়েছে গতকাল। গতকাল যেই ১৪ তলা ভবনটি ইসরাইলি বিমান বাহিনী মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে; সেখানে এপির (এসোসিয়েটেড প্রেসের) অফিসও ছিল। এটি বিশ্বের একটি নামকরা সংবাদ সংস্থা। ভবনটি ধ্বংস হবার পর এপির প্রধান বলছেন- আমরা ওই বিল্ডিং এ ১৫ বছর ধরে কাজ করছি। কোন দিন শুনিনি সেখানে হামাস কিংবা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন কাজ করছে। অথচ ইসরাইল এই অজুহাতে পুরো বিল্ডিং উড়িয়ে দিয়েছে। কেন দিয়েছে জানেন তো? যাতে করে সঠিক সংবাদ পৃথিবীর মানুষ না পায়। যাতে করে আমেরিকা তার মিত্র ইসরাইলকে নিয়ে নিজেদের মতো করে নতুন ন্যারেটিভ তৈরি করে আরেকটি নতুন দেশে হামলে পড়তে পারে কিংবা গাজায় আরেকটু ভূমি দখল করে নিতে পারে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]