• প্রচ্ছদ » » বিশ্বে মুসলিমরা যে নির্যাতিত হচ্ছে তার কারণ নিজেদের মধ্যে কোনো একতা নেই


বিশ্বে মুসলিমরা যে নির্যাতিত হচ্ছে তার কারণ নিজেদের মধ্যে কোনো একতা নেই

আমাদের নতুন সময় : 18/05/2021

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন : বিশ্বে মুসলিমরা যে নির্যাতিত হচ্ছে তার কারণ নিজেদের মধ্যে কোনো একতা নেই। অশিক্ষিত বর্বরদের মাঝে একতা থাকবে না সেটাইতো স্বাভাবিক। অশিক্ষিত বর্বররা না পরিবারকে শান্তি দিতে পারে, না পারে সমাজকে শান্তি দিতে। তাদের মধ্যে কলহ-বিবাদ লেগেই থাকবে। আরব এবং মুসলিম দেশগুলোর দিকে তাকান সেখানে তাদের মধ্যে ন্যূনতম একতা পাবেন না। তাছাড়া জ্ঞান বিজ্ঞানে না আগাতে পারলে তাদের প্রতিবাদকেও কেউ পুছবে না। আরবদেশগুলোরতো অর্থ আছে কিন্তু জ্ঞান বিজ্ঞানে পিছিয়ে আছে। এই অর্থকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে সেটা নিয়ে আরো একটি লেখা নিচে কাট ্ পেস্ট করলাম। এটি লিখেছে আমার প্রিয় ছাত্র মহিউদ্দিন মোহাম্মদ। ‘মুসলিমরা যে-হারে আহাজারি ও দোয়া করে, সে-হারে যদি তারা বিজ্ঞানে বিনিয়োগ করতো, তাহলে ফিলিস্তিনের এ দুর্দশা আমাদের দেখতে হতো না। বন্দুকের সামনে বাঁশের লাঠি নিয়ে দাঁড়ানো কোনো বীরত্ব নয়, এটি বোকামি। আল্লাহ বোকাদের কখনো সাহায্য করেছেন, এরকম প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া যায় না। পারমাণবিক বোমার যুগে যে সালাউদ্দিন আইয়ুবীর ঘোড়া কোনো কাজে দেবে না, এটি সবার আগে বুঝতে হবে। ইন্টেলিজেন্স কামিউনিটির এসেসমেন্ট হলো, ইসরায়েলের হাতে অন্তত আশিটি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড রয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে ইসরায়েল এটি কখনো স্বীকার করে না। এটিকে জুজুর ভয় ভাবারও কোনো কারণ নেই। সিরিয়ান এবং ইরানিয়ান ইন্টেলিজেন্সও একই রকম এসেসমেন্ট করেছে। সুতরাং, মুসলিমদের ধরে নিতে হবে যে, ইসরায়েলের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে।
এই মুহুর্তে মসজিদুল আকসা দখল করার চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিতে হবে। এটি ইসরায়েলে আছে, এবং আরও অনেক দিন ইসরায়েলেই থাকবে, এ বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। মেনে নিয়ে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু বিনিয়োগ বাড়ালে চলবে না, মানুষকে স্বাধীনভাবে বিজ্ঞানচর্চা করতে দিতে হবে। ইসলামসম্মতভাবে বিজ্ঞানচর্চা, এই আজগুবি ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। ইবনে সিনা, আবু রুশদ, যাদের নিয়ে মুসলিমরা এখন গর্ব করে, তাদের কিন্তু জীবদ্দশায় অনেকটা পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিলো। গোঁড়া মুসলিমরা তাদের শান্তিতে থাকতে দেয়নি। যদি প্রভাবশালী কয়েকজন খলিফার আনুক‚ল্য তারা না পেতেন, তাহলে তাদেরও গলা কাটা হতো। মুসলিমদের এ মানসিকতা এখনও আছে। এ মানসিকতা যতোদিন থাকবে, ইসরায়েল তাদের চেয়ে এগিয়েই থাকবে। আর ইসরায়েলের সাথে ক‚টনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করলে অসুবিধাটা কোথায়? আমেরিকা ও রাশিয়ার সাথে তো ইসরায়েলের কোনো গুণগত পার্থক্য নেই। আমেরিকা-রাশিয়ার সাথে যদি কোলাকুলি করা যায়, তাহলে ইসরায়েলের সাথেও করা যাবে বলে মনে করি। এতে একটি লাভ হবে। মসজিদুল আকসা দখলের প্রয়োজনীয়তা আর থাকবে না। মসজিদুল আকসায় বিশ্বের সকল মুসলিম যেতে পারবে, এই শর্তে ইসরায়েলের সাথে ক‚টনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করার কথা ভেবে দেখা উচিত। যারা গান গজল গেয়ে আর ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে চান, তারাই মুসলিমদের প্রকৃত শত্রæ। তারাই মুসলিমদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে রেখেছে। আমরাই সেরা, আমরাই শ্রেষ্ঠ, এরকম আত্মপ্রসাদ এ পাগলদের মোহাবিষ্ট করে রেখেছে। এ আত্মপ্রসাদের ডিমটি আগে ভাঙতে হবে, এবং খতিয়ে দেখতে হবে তারা পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে কী কী ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। এ পিছিয়ে পড়া থেকে সামনে এগুনোর একটাই পথ। সেটি হলো আল্লাহকে কম বিরক্ত করা। আল্লাহ মগজ দিয়ে দিয়েছেন, এটিকে সবার আগে কাজে লাগাতে হবে। ইহুদি, নাসারা, নাস্তিক, মালাউন এসব গালাগালি বাদ দিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বুকে ধারণ করতে হবে। কিন্তু তার আগে বুকে গজানো গোবরের জঙ্গলটিও পরিষ্কার করতে হবে।’ পড়াশুনা না করলে মোসাদের চাল বুঝবা না। ঐটা না বুঝলে তাদের খেলার ঘুটি হয়ে মার খেতেই থাকবা আর নিয়তি বলে মেনে নিতেই থাকবা। বোনাস হিসাবে নিজেরা নিজেরা কলহ করতেই থাকবা। লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]