• প্রচ্ছদ » » কবি, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস আজ, তাকে প্রশংসা করে কথাশিল্পী শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই কলমের জন্যই তুমি জন্মেছ


কবি, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস আজ, তাকে প্রশংসা করে কথাশিল্পী শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই কলমের জন্যই তুমি জন্মেছ

আমাদের নতুন সময় : 26/05/2021

মোহাম্মদ হাসান : শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কবি, কথা-সাহিত্যিক ও নাট্যকার । শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর কলকাতার কালীঘাটের ১০/১০ নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিটের মামার বাডিতে। পিতা সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা সুরুচি দেবী। তাঁর শৈশবের বছর সাতেক কাটে মামার বাড়িতেই। ছোট বেলায় দুরন্ত ছিলেন, লেখাপড়ায় মন ছিল না। তাই দাদামশাই তাঁকে শান্তিনিকেতনে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু বছর ঘুরতেই দাদু ফিরিয়ে আনলেন ।
আশুতোষ কলেজ থেকে আইএ, ও পরে বিএ পাস করেন । ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। আর্থিক অনটনের কারণে ইন্ডিয়ান কপার কর্পোরেশনে ইনস্পেক্টরের চাকরি নিয়ে চলে যান ঘাটশিলা। সেখানে তিনি বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্পর্শে আসেন। তাঁর উৎসাহে, প্রেরণায় সেখানকার পরিবেশ তার কলমে এসেছে। এখানে থাকতে বিভ‚তিভ‚ষণের ভাগ্নি উমা দেবীর সঙ্গে বিবাহ হয়। ১৯৪৫-এ ‘এম এল ব্যানার্জি অ্যান্ড সন্স’ নামে এক জাহাজ কোম্পানির ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে ওয়ালটেয়র চলে যান এবং তাঁর এই যাত্রাও বাংলা সাহিত্যে তৈরি করল নতুন পথ। প্রথম সাগরের হাওয়া এসে লাগল তাঁর সৃষ্ট বাংলা গল্পে। এরপর তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। উপ-অধিকর্তা হিসাবে ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়া ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লোকরঞ্জন শাখার নাট্য পরিচালক হিসাবেও কাজ করেছেন । ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে যখন শচীন্দ্রনাথ সতেরো বৎসরের কিশোর, তাঁর প্রথম গল্প ‘বুভুক্ষা’ প্রকাশিত হয় ‘মানসী’ পত্রিকা আয়োজিত এক প্রতিযোগিতায় । কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সেই প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন। গল্পটি পড়ে তিনি এমন মুগ্ধ হন যে, পকেট থেকে নিজের কলমটি বের করে তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘তোমার জীবনে সুখ আসবে, দুঃখ আসবে, কিন্তু এই কলমটি তুমি ছেড়ো না। মনে রেখো, এই কলমের জন্যই তুমি জন্মেছ।’
১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে তিনি লেখেন প্রথম নাটক ‘উত্তরাধিকার’। সে বছরই কলকাতার বালিগঞ্জ শিল্পী সঙ্ঘের উদ্যোগে তা মঞ্চস্থও হয়।১৯৪৪-৪৫ খ্রিস্টাব্দে লেখেন প্রথম উপন্যাস ‘এ জন্মের ইতিহাস’। সরোজকুমার রায়চৌধুরী সম্পাদিত ‘বর্তমান’ পত্রিকায় ১৯৪৯ সালে তা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। দেবদাসীদের কাহিনী অবলম্বনে রচিত উপন্যাস ‘জনপদবধূ’ এবং এটি দীর্ঘ কাল মঞ্চস্থ হয়েছে কলকাতার বিশ্বরূপা, স্টার বা রঙমহলে। ‘এই তীর্থ’ উপন্যাস থেকে হয়েছে ‘জীবন সংগীত’ চলচ্চিত্র। ছোটদের জন্য লিখেছেন ‘মার্কো’, ‘মেমোরিয়ালের পরী’, ‘বিভূতিভূষণের মৃত্যু’, ‘চন্দ্রলোক থেকে আসছি’ -র মতো গল্প, ‘ক্রৌঞ্চদ্বীপের ফকির’ উপন্যাস। ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে’বন্দরে বন্দরে’ উপন্যাসের জন্য বঙ্কিম পুরস্কারে সম্মানিত করে । রাজ্য সরকারের চাকরি হতে অবসরের পর তাঁর শেষ জীবন কাটে কলকাতার চেতলার মহেশচন্দ্র দত্ত লেনের বাড়ি ‘তীরভ‚মি’তে। সেখানেই তিনি ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মে প্রয়াত হন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]