• প্রচ্ছদ » » ইসরায়েলের সঙ্গে ক‚টনৈতিক সম্পর্ক


ইসরায়েলের সঙ্গে ক‚টনৈতিক সম্পর্ক

আমাদের নতুন সময় : 27/05/2021

মো. সামসুল ইসলাম : ইসরাইল একটা ঢ়ধৎরধয ংঃধঃব, আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে মোটামুটি ড়ঁঃপধংঃ। পৃথিবীতে ইসরাইল হচ্ছে একমাত্র রাষ্ট্র যারা শুধু একটি ভ‚খÐ দখল করেনি, সেখানকার মোটামুটি সব অধিবাসীদের তারা বের করে দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের কিছু পশ্চিম তীর আর গাজায় আর বাকিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে জর্ডান, সিরিয়া, লেবাননসহ বিশ্বের নানা দেশে। ইসরাইলে থাকলেও আছে অল্প। ইসরাইলের সৃষ্টি মধ্যপ্রাচ্যে একটা বিশাল ক্ষত। মধ্যপ্রাচ্যকে নিয়ন্ত্রণের স্ট্র্যাটেজিক কারণে যে ইসরাইলকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা পশ্চিমারা খোলাখুলি স্বীকার করেন। এখানে কোনো রাখঢাক নেই। এইতো কয়েকদিন আগে আমি জো বাইডেনের একটা পুরনো ভিডিও শেয়ার করেছি, সেখানে তিনি একই কথাই বলছেন।
ইসরাইলকে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম দেশগুলোকে ঘায়েল করা, তেল সম্পদ লুট করা, রাজা বাদশাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা, এগুলো পশ্চিমারা তাদের স্বার্থেই করে থাকেন। লক্ষ, লক্ষ নিরীহ মুসলমান মারা গেছেন বিগতবছর গুলোতে। না পেরে সেখানকার সাধারণ মানুষদের মধ্যে জঙ্গীবাদের ধারণা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তা আবার ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এতোকিছু লিখছি এই কারণে যে পাসপোর্ট থেকে ইসরাইলের নাম বাদ পড়ার এই সুযোগে অনেকে দেখি বাংলাদেশকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা কি জেনে বলছেন বা না জেনে বলছেন তা অবশ্য আমি বুঝতে পারছি না। কিন্তু তারা দেশের-সহ বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানদের অনুভ‚তিতে আঘাত করছেন।
ইসরাইল একটি ৎবঢ়ৎবংংরাব পড়ঁহঃৎু । ইসরাইলের নীতিকে ঘৃণা করা ধহঃর-ংবসরঃরংস নয়, তারা নিজেরাই বরং বর্ণবাদী রাষ্ট্র কারণ তারা পুরো অঞ্চলে ঔবরিংয ংঁঢ়বৎসধপু প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তাদের প্রতিটি নাগরিক মিলিটারি ট্রেনিং প্রাপ্ত। মুসলিম এবং আরবদের প্রতি তাদের রয়েছে অপরিসীম ঘৃণা। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক বিরোধে বা মুসলিম নিধনে সাহায্য করা তাদের পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। শত্রæর শত্রæ বন্ধুÑ এ নীতিতে তারা বিশ্বাসী। খুব বেশি উদাহরণ দিতে চাই না। মিয়ানমারের কথাই ধরুন। মিয়ানমারের মুসলিম গণহত্যায় যে ইসরাইলের গোপন ইন্ধন আছে তাতো বিদেশি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ২০১৯ সালে মিয়ানমারের আর্মি অফিসারদের তেলআবিবের বিধঢ়ড়হং বীঢ়ড়তে দেখা গিয়েছে। অং সাং সুকিকে যখন গণহত্যা আর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ওঈঔতে ঐধমঁব এ যেতে হয়েছিল তখন মিয়ানমারে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত আর আবেগ লুকাতে পারেননি। সুকিকে এড়ড়ফ খঁপশ! জানিয়ে টুইট করে বসেছিলেন। পরে সমালোচনার মুখে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভুলবশত হয়েছে এরকম কিছু একটা বলে টুইটটি প্রত্যাহার করে। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যারা কাজ করেন তারা ইসরাইলি স্বেচ্ছাচারিতার বা তাদের অনৈতিক অভ্যন্তরীণ বা পররাষ্ট্রনীতির এরকম অনেক ঘটনাই জানেন।
এসব না জেনেশুনেই বা না বুঝেই অনেকে ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের ক‚টনৈতিক সম্পর্ক চাইছেন। পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে তো জনমতও গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা কি জেনেছেন বাংলাদেশের মানুষ এ সম্পর্ক চায় কিনা? অনেকে জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা বলছেন। হাস্যকর। তারা ইসরাইল-প্যালেস্টাইনের বর্তমান সংকট নিয়ে সে দেশের খ্যাতিমান পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল ণাঁধষ ঘড়ধয ঐধৎধৎরর বক্তব্য বোধহয় ফেসবুকে দেখেছেনও। আমি তো সেটা পড়ে বুঝতেই পারলাম না যে কে কাকে অত্যাচার করছে! তাদের কাছে জ্ঞান অর্জনের জন্য যেতে হবে? সাধারণ জনগণ, সাধারণ মুসলিমরা এসব জানে। তারা এটাও জানে যে ইসরাইলের সাহায্য বা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তাদেরই দরকার যারা জনবিচ্ছিন্ন, নিজ দেশের জনগণের ওপর জুলুমকারী সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের অগণতান্ত্রিক রাজা-বাদশারা তাদের গদি বাঁচাতে তাই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ এ ফাঁদে পা দেবে বলে আমার মনে হয় না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]