• প্রচ্ছদ » » লুঙ্গিপরা একজন মানুষ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবি পেশ করে তা আদায়ও করেছিলেন!


লুঙ্গিপরা একজন মানুষ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবি পেশ করে তা আদায়ও করেছিলেন!

আমাদের নতুন সময় : 09/06/2021

রবিউল আলম : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা দাবি আজ ইতিহাসের পাতায়, অনেকের কাছে লুঙ্গিপরা মুজিব জাতির পিতার আসনে। ৬৬টির ৬ দফা বাস্তবায়নে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে একটি দাড়ি-কমাও আপোস করেননি। ৬ দফার একটি কথা বায়স্তবায়নে একাত্তর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। দাবি একটাই, বাঙালি জাতির মুক্তির সনদÑ এই লুঙ্গিপরা মানুষটাই বাস্তবায়ন করেছেন। মানুষটিকে ৩২ নম্বর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়, দলীয় কর্মসূচি পালনের সময়, ৩২ নম্বর ধানমন্ডি লেকের পারে বসে এক নজর সেই বিখ্যাত বেলকনির দিকে চোখ, লুঙ্গিপরা মুজিব পাইপ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। কী যেন বলছেন! পরক্ষণেই স্বপ্নভঙ্গ। মুজিবকে আমরা যারা লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, তাদের কাছে তিনি কল্পনা নয়। একটি আঙুলের ইশারায় বাঙালি জাতির পথ চলার নির্দেশনা দেওয়ার মানুষটি লুঙ্গি পরেন, অতিসাধারণ জীবনযাপন করতে পারেনÑ আজকের প্রজন্মের কাছে এটা কল্পনার মতো হতে পারে।
হাজার বছর পরে বাঙালি জাতি কীভাবে গ্রহণ ও বরণ করবে জানি না। তবে আমার মনের মাঝে লুঙ্গিপরা মুজিবের প্রতিচ্ছবি। ব্যালকনির ওপর দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের দর্শন, মিছিলের অভিবাদন গ্রহণ, জাতির উদ্দেশে দিকনির্দেশনা, পাইপ হাতে চিরাচরিত বাচনভঙ্গি লিখে কী আর বোঝানো যাবে? কী ছিলো জাতির জনকের প্রতিচ্ছবিতে? কী যাদুর বলে মানুষকে বশীকরণ, লোভলালসাহীন জীবন, ত্যাগে মহিমান্বিত হয়ে উঠতেন মানুষ, আমি জানি না। ৩২ নম্বর লেকের পারে বসে বাঙালির তীর্থস্থান জাতির পিতার বাড়ির ব্যালকনির দিকে তাকালে, যেখানে লুঙ্গিপরা মুজিবকে দেখেছি, হারিয়ে যাই এখন কার রাজনীতি থেকে? ফুটপাত দখলে নেওয়া, খাদ্য সহায়তা থেকে চাল-ডাল চুরি করা, টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো, জ্বালাও-পোড়াও, এর নাম কী রাজনীতি? এ জন্য কি ৬ দফা? স্বাধীনতা, ৩০ লাখ মানুষের জীবন, ২ লাখ ৭৬ হাজার মা-বোনের সম্ভ্রমহানি? আমি আর আমার মাঝে থাকতে পারি না। করোনার একাকীত্ব থেকে কিছু সময়ের জন্য ৩২ নম্বব লেকের পাড়ে গিয়ে বসেছিলাম। আগেই বুঝেছিলাম করোনার জন্য ফেরিওয়ালা নেই, চিনা বাদাম সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। দুটি বাদাম খাওয়ার পরে আর খেতে পারলাম না, চোখের পানি আটকাতে পারছিলাম না। ৩২ নম্বরে আগের চেয়ে অনেক সুন্দর সাজসজ্জা হয়েছে। আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য নেই। ব্যালকনিতে মুজিব নেই। বাড়ির পেছনে কবুতর, গরু, হাঁস-মুরগি, বেগম মুজিবের চিল্লাচিল্লি, পাকের জন্য হাঁকডাক, মিছিলের পর মিছিল, জয়বাংলা ¯েøাগান। নৌকার জয়, নেতা-কর্মীদের উদ্দীপনা কী আর লিখে বোঝানো যাবে? নতুন প্রজন্মকে অনুভব করতে হবে। ৬ দফার একটি দফার সঙ্গে যদি আপোস করা হতো, মুজিব যদি প্রধানমন্ত্রীত্বের লোভ সংবরণ করতে না পারতেন, বাঙালি জাতি কি স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা বুঝতো? না বোঝানো যেতো? ফাঁসির মঞ্চ থেকেও মুজিবের কণ্ঠ প্রতিরোধ করতে পারেনি পাকিস্তানি শাসকেরা, কবর খুড়েও যাকে দমাতে পারেনি, সেই মুজিবের লাশটা পরে ছিলো ৩২ নম্বরে, এই তো এখানে, সিঁড়ির ওপর। নিজেকে সামলাতে পারছি না। কারণ এ সবই আমার চোখে দেখা। লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]