• প্রচ্ছদ » » পরীমনির অভিযোগ এবং মানসিক বৈকল্যের চিত্র


পরীমনির অভিযোগ এবং মানসিক বৈকল্যের চিত্র

আমাদের নতুন সময় : 16/06/2021

প্রভাষ আমিন : পরীমনি রোববার সন্ধ্যায় যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলেন, ২৪ ঘণ্টা পর তাতে ২ লাখ ৮৫ হাজার রিয়্যাক্ট, ১ লাখ ১০ হাজার মন্তব্য। রিয়্যাক্টের বেশিরভাগই অট্টহাসির। পরীমনির স্ট্যাটাসের ১ লাখ ১০ হাজার মন্তব্য ছাড়াও তার বিভিন্ন লাইভ, ফেসবুকে অন্য অনেকের স্ট্যাটাসের নিচে এ বিষয়ে আরও কয়েক লাখ মানুষের মন্তব্য আছে। সব মন্তব্য ফলো করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে সত্যি কথা বলতে গেলে, মন্তব্যের কিছু অংশ দেখে আমার মনে হয়েছে আমরা আসলে আদিম যুগে বাস করছি। নিজেদের সভ্য দাবি করার যোগ্যতা আমাদের নেই। মানুষের মনে এত বিকৃতি, এত অশ্লীলতা থাকতে পারে, এটা কল্পনা করাও অসম্ভব। মনে না হয় থাকল, কিন্তু সেই বিকৃতি, সেই অশ্লীলতা এভাবে প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগে উগড়ে দেয়া কীভাবে সম্ভব; আমার চিন্তায় আসে না!
বিকৃত মানসিকতার এই মানুষগুলোর মধ্যে কিছু ফেক আইডি যেমন আছে, তেমনি আছে বিপুলসংখ্যক চেনা মানুষও। আমি খালি ভাবি, এই মানুষগুলো যে এভাবে নিজেদের ভেতরের নোংরামি সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে; তাদের কি বাবা-মা নেই, ভাই-বোন নেই, স্বামী/স্ত্রী-সন্তান নেই, বন্ধু-বান্ধব নেই? আগে যেটা বলেছি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের চোখের লজ্জার পর্দাটা সরিয়ে দিয়েছে।
পরীমনির অভিযোগ অনুযায়ী নাসির ইউ মাহমুদ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফেসবুকে নাসিরের অপরাধের চেয়ে পরীমনি কেন অত রাতে সেখানে গেল সেটা নিয়ে অনেকের কৌতূহল। ঢাকা বোট ক্লাব কোনো নিষিদ্ধ স্থান নয় যে, সেখানে যাওয়া যাবে না।
আচ্ছা ধরে নিলাম, পরীমনি অত রাতে সেখানে গিয়ে খুবই খারাপ কাজ করেছেন। কিন্তু একজন নারীকে মধ্যরাতে কোথাও পেলেই আপনি তাকে ধর্ষণ করতে যাবেন।অনেকের মন্তব্য দেখে মনে হয়েছে, নাসিরের জায়গায় তিনিও থাকলে একই কাজ করতেন। অনেকে এমনও বলছেন, পরীমনিকে ধর্ষণ করতে হবে কেন? ভাবখানা এসন সিনেমার নায়িকাদের যেন কোনো মান-সম্মান নেই, চাইলেই যে কেউ যখন-তখন নায়িকাদের কাছে পেতে পারেন। অনেকে বলছেন, ধর্ষণ-টর্ষণ কিছু না, টাকা-পয়সার বনিবনা হয়নি। এগুলো কিন্তু উদ্ধৃত করার যোগ্য মন্তব্য। হাজার হাজার মন্তব্য আছে, যেগুলো এখানে লেখা তো দূরের কথা পড়তেও বিবমিষা জাগে। আমরা সভ্যতার কথা বলি, ভদ্রতার কথা বলি। গত দুদিন ফেসবুক দেখে মনে হচ্ছে, এসবই আসলে ভদ্রতার মুখোশ। আমরা আসলে এখনও সভ্য হতে পারিনি।
পরীমনি কোথায় কার সঙ্গে বেড়াতে গেছেন, কেমন পোশাক পরে সিনেমায় অভিনয় করেছেন; এসব টেনে এনে তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়কে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। এমনকি পরীমনি যখন সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, তখনও অনেকে হাসছিলেন আর বলছিলেন, এটাও অভিনয়। পরীমনি বার বার বলছিলেন, আপনার সঙ্গে না হলে আপনি বুঝবেন না। আসলেই আমরা অনেকেই বুঝিনি, বুঝতে চাইওনি। সিনেমার নায়িকা মানেই যেন বাজারের পণ্য। আরে ভাই বাজারের পণ্যও তো আপনি অনুমতি ছাড়া ছুঁতে পারবেন না!
মানলাম, আপনাদের অভিযোগই ঠিক, পরীমনির চরিত্র ‘খারাপ’। তার অনেক পুরুষ বন্ধু। কিন্তু অনেক পুরুষ বন্ধু মানেই এই নয় যে, আপনিও তার বন্ধু। সিনেমার নায়িকা মানেই ভোগ্যপণ্য, এই ধারণাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন, মানুষকে মর্যাদা দিতে শিখুন।
শুধু পরীমনির জন্য নয়, সব মানুষের জন্য একটা নিরাপদ দেশ গড়ার আমাদের সবার চেষ্টা, আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু চারপাশে যখন এমন অসংখ্য বিকৃত মানুষ কিলবিল করছে, তখন সেই নিরাপদ সমাজটা গড়ে তোলা কঠিন। গত কদিনে ফেসবুকে অনেক মানুষ দেখেছি, যারা সেই নাসিরের মতোই।
নাসিরের সামর্থ্য আছে বলে সে পরীমনির ওপর চড়াও হয়। সুযোগ ও সামর্থ্য থাকলে আরও অনেক মানুষ নারীর ওপর চড়াও হতো। নিজেকে সভ্য দাবি করতে হলে আগে মানুষকে মর্যাদা দিতে শিখুন, মানুষের ব্যক্তি জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সম্মান করুন। নিজের ভেতরের অশ্লীলতাকে, নোংরা অস্তিত্বকে প্রকাশ করে সমাজকে আরও নোংরা করবেন না। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]