‘ধান্দাবাজ’ ট্রাফিক পুলিশদের কাউন্সিলিং দরকার

আমাদের নতুন সময় : 21/06/2021

আসিফ আকবর : আমার বড় ছেলে রণ ড্রাইভিং লাইসেন্স হোল্ডার, একজন সহি রুটিনমাফিক চলা নাগরিক। গাড়ির সমস্ত কাগজপত্র ঠিকঠাক। ট্রাফিক সার্জেন্ট একপর্যায়ে রণ’র সঙ্গে তুই-তোকারী ব্যবহার শুরু করলো। রণ’র ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ। এক্স ক্যাডেট হিসেবে তার ইচ্ছে ছিলো আর্মিতে যাবার, বিশেষ কারণে হয়নি। ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে সাপোর্ট পেলো না ব্যাংকের। দেশেই কিছু করতে চেয়েছিলো, ফাইনালি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাস্টার্স করার জন্য পশ্চিমা কোনো দেশে চলে যাবে। ছোট ছেলে রুদ্রও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে ট্রাফিক হেনস্থার শিকার হয়েছে। কোনো দোষ খুঁজে পায়নি, উল্টো তার বন্ধুদের ইয়াবা দিয়ে ধরিয়ে দেবার হুমকি দিয়েছে। ২০ জুন সকালে শিকার হলাম আমি। হাতিরঝিল মোড়ে একজন গাড়ির কাগজ দেখতে চাইলে তাকে দেখালাম পুরো ফাইল। তিনি বললেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখান। এখন লাইসেন্স কোথায় পাই! আমার মোবাইলে লাইসেন্সের ছবি তোলা আছে, তিনি মানতে রাজি নন। আমি বললাম গাড়িতে উঠেন, বাসা পর্যন্ত যেতেই হবে। তিনি উঠে বসলেন গাড়িতে, কিছুক্ষণ বসে বলে আমার ভুল হয়েছে। নামিয়ে দিলাম রাস্তায়। বলে দিলাম, এই দেশে অবৈধ কাজও আমি বৈধভাবে করতে চেষ্টা করি ব্রাদার, আপনার এখনকার ধান্দাটা মিসকল হয়ে গেছে। পেছনে অলরেডি গাড়ির লাইন। তার সহকর্মীরা ব্যস্ত কারওয়ান বাজার থেকে আসা মালবাহী পিকআপ আর ভ্যানওয়ালাদের সঙ্গে ডিলে, তাদের কাছ থেকে টাকাপয়সা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। এ ধরনের ব্যবহারে কষ্ট পাচ্ছে একটা জেনারেশন। ডিউটিরত এ সমস্ত ধান্দাবাজ ট্রাফিকদের কাউন্সিলিং দরকার। কাকে, কখন, কীভাবে সম্মান করে কথা বলা হবেÑ এগুলা শেখাতে হবে তাদের। খামোখা আইন মানা প্রজন্মকে হয়রানি করার ভবিষ্যৎ পরিণতি ভালো হওয়া উচিত না। উভয়পক্ষের তাৎক্ষণিক কমপ্লেইনগুলো সমাধানের জন্য প্রকৃত ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা খুব প্রয়োজন। তাদের পোশাকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্মান জড়িত। পরিধেয় সরকারি পোশাকটা যেন সম্মানিত থাকে সেই ব্যাপারে সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। রাস্তায় অহেতুক অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
এর মধ্যে ভালো ডিউটিফুল অফিসারও আমরা পাই। জনতার কর্মচারীর অত্যাচারী হওয়া উচিত নয়, জনতারও উচিত নয় রাষ্ট্রের আইনের বিপক্ষে যাওয়া। পোশাক আর হয়রানি মুখোমুখি না হওয়াটাই সবচেয়ে ভালো পন্থা। বেতনভুক্ত দায়িত্বশীলদের ভালো ব্যবহারের বিকল্প নেই, প্রকল্প আছে। ভালোবাসা অবিরাম। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]