লকডাউনে শিথিলতা বিপজ্জনক

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2021

ড. শোয়েব সাঈদ : বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এই মুহূর্তে ভয়াবহ; প্রতিদিনই রেকর্ড হচ্ছে সংক্রমণ আর মৃত্যুতে। বাংলাদেশে ডেল্টা সংক্রমণের গতিবিধির সঙ্গে উপমহাদেশের বিশেষ করে ভারতের মিল রয়েছে। সার্বিকভাবে করোনা সংক্রমণে ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্যাটার্নটির মিল আগেও ছিলো। সংক্রমণের গ্রাফের দিকে তাকালে দেখা যায় ডেল্টায় ভারতে খারাপ অবস্থা ছিলো মাস দুয়েক আর তার মধ্যে চরম অবস্থা ছিলো মাস খানেক, যাতে তিন লক্ষের অধিক দৈনিক সংক্রমণ আর দৈনিক মৃত্যু ৪ হাজারের কাছাকাছি ছিলো। বাংলাদেশে পরিস্থিতি অবনতি হতে শুরু করেছে রোজার ঈদের পর থেকেই, খারাপের দিকে যাচ্ছিলো মাস খানেক আগে থেকে প্রায় ৫ হাজারের বেশি সংক্রমণ নিয়ে। সপ্তাহ দুয়েক হলো সংক্রমণ আর মৃত্যুর প্রতিদিনই জাতীয় রেকর্ড ভাঙতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতালব্ধ একটি প্রত্যাশা ছিল কঠোর লকডাউন আর স্বাস্থ্যবিধি দিয়ে জুলাই মাসের শেষ নাগাদ প্রবণতাটি নি¤œমুখী করার।
কোভিড সংক্রমণ রোলার কোস্টারের মতো এবং গত পনেরো মাসের বৈশ্বিক ডাটা বলছে কঠিন অবস্থাটি কঠোর ব্যবস্থাপনায় মাসখানের মধ্যে নি¤œমুখী করা যায়। চরম অব্যবস্থাপনার ব্রাজিল, ট্রাম্প যুগের যুক্তরাষ্ট্র সহ কিছু দেশ নিজেদের ভুল সিদ্ধান্তে এর ব্যতিক্রম ছিলো অবশ্য। ভারত কিন্তু কঠোর ব্যবস্থাপনায় ডেল্টার সংক্রমণ দ্রæততার সাথে কমিয়ে এনেছিলো। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সব তথ্য অজানা থাকার কথা নয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ বিষয়ে। ডেল্টা সংক্রমণের কঠিন এই অবস্থায় বাংলাদেশে সংক্রমণ আর মৃত্যুর গ্রাফের ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখীতার মধ্যে ঈদ উপলক্ষ্যে কোভিড ব্যবস্থাপনার শিথিলতা এক আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। এতে ডেল্টার ভয়াবহতা আরও ব্যাপক এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। কোভিডের কারণে হজ্ব হচ্ছে না দুই বছর যাবৎ। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কোভিডের কঠিন দুঃসময়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতার চাইতে সমাজ, রাষ্ট্র, মানবিকতা আর জনগণের জানমাল রক্ষায় ধর্মীয় দায়বদ্ধতা অনেক বেশি ঈমানভিত্তিক। আমাদের দরকার আরও সপ্তাহ দুয়েকের কঠোর লকডাউন, সত্যিকারের লকডাউন। দায়সারা ধরণের লকডাউন দেবার চাইতে অবশ্য না দেওয়া ভালো। সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োগের দায়িত্ব সরকারের, সরকার যদি মনে করে লকডাউন কার্যকরী করা যাবেনা, তাহলে দেবার দরকার নেই। ঈদের সময়ে জনসমাগমকে উৎসাহিত করার মত শিথিলতা আমাদের কান্নাকে আরো ব্যাপক ও দীর্ঘায়িত করবে। বাংলাদেশের দু’কোটি মানুষের দিনে এনে দিনে খায় এই কথা ভেবে বরাবরই লকডাউনের বিপক্ষে ছিলো আমার অবস্থান কিন্তু এই মুহূর্তের বাস্তবতা বলছে ডেল্টা সংক্রমণের ভয়াবহতার লাগাম টেনে ধরতে হলে, গ্রামীণ এলাকাকে সংক্রমণের হাত (ভারতের মতো অবস্থা দেখতে চাইনা) থেকে বাঁচাতে হলে সত্যিকারের লকডাউনের সপ্তাহ দুই-তিনেকের কঠোরতার বিকল্প নেই। বন্যার সময় যেমন আমরা কয়েক সপ্তাহ আটকে থাকি ঠিক তেমনি কোভিডের লাগাম টেনে ধরতে হলে লকডাউনকে সেভাবেই দেখতে হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্যে সরকারের আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টি এই ক্ষেত্রে লাইফ লাইনের কাজ করবে। সংক্রমণের ভয়াবহতা পিকে থাকার সময় কোভিড ব্যবস্থাপনার শিথিলতা অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা মানুষটির নাক-মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্কটি খুলে নেবার মতোই অবিমৃশ্যকারিতা। লেখক : কলামিস্ট, অনুজীব বিজ্ঞানী, কানাডার একটি বহুজাতিক কর্পোরেটে ডিরেক্টর পদে কর্মরত।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]