• প্রচ্ছদ » » সংক্রমণের হার বাড়লেও করোনাভাইরাস দিন দিন দুর্বল হচ্ছে, জানালেন গবেষকেরা


সংক্রমণের হার বাড়লেও করোনাভাইরাস দিন দিন দুর্বল হচ্ছে, জানালেন গবেষকেরা

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2021

আব্দুল্লাহ মামুন: [২] ভাইরাস ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উন্নত মানের ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন কোভিড গবেষণায় যুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। [৩] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব প্রযুক্তি, জিন প্রকৌশলবিদ এবং বাংলাদেশ গবেষণা একাডেমির ফেলো ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ভয়ংকর ভাইরাস কোভিড নিয়ে বৈশি^কভাবে গবেষণা অনেক এগিয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে প্রায় ১ হাজারের মতো গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। আমাদের গবেষণার বিষয়গুলো ছিলো জেনম সিকুয়েন্স করে অরগানিজমের পরিবর্তন ও গতিশীলতা এবং ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিতকরণ। এতে আমরা দেখছি, ভাইরাসটি একটা সিঙ্গেল স্ট্রেন্ডেড আরএনএ ভাইরাস। বায়োএনফোরমেটিক গবেষণা করে ভাইরাসটির বিবর্তন ও পরিবর্তন বুঝতে সক্ষম হয়েছি।
[৪] তিনি আরও বলেন, কোভিড ১৯ ভাইরাস মানব দেহের অনান্য উপকারী অনুজীবের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়ার ফলে কীভাবে অনুজীবগুলো নষ্ট করে এবং পরবর্তী সময়ে সেই মানুষের দেহে অনুজীবগুলো কী অবস্থান ধারণ করে তা নিয়ে নানান রকমের গবেষণা করে নতুন জ্ঞান অর্জন করছি। তবে সমন্বিতভাবে জাতীয় পর্যায়ে কোনো গবেষণা হয়নি, যে গবেষণাগুলো হয়েছে সব ব্যক্তিগত, জাতীয়ভাবে কোনো তহবিল গঠন বা কোনো প্রকল্প আহবান করা হয়নি, যা অধিকাংশ দেশ করেছে।
[৫] ঢাবির সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস-এর চিফ সায়েন্টিস্ট ড. মো. লতিফুল বারী বলেন, কোভিডের শুরু থেকে আমরা গবেষণা সেন্টার চালু রেখে সেবা প্রদান করছি। এছাড়া কোভিড সম্পর্কে বিদ্যমান আতঙ্ক বা প্রশ্ন, সন্দেহ, কৌতুহলগুলোর উত্তর আমরা বের করেছি। অর্থাৎ জীবন্ত বাহক ছাড়া ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে না।
[৬] তিনি আরও বলেন, কোভিডের পরিবর্তিত ভ্যারিয়েন্ট নির্ণয় ও সিকুয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে ভাইরাস আরও শক্তিশালী না দুর্বল হচ্ছে তার তুলনামূলক গবেষণা করা হয়। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে তবে ভাইরাসটি দিন দিন তুলনামূলক দুর্বল হচ্ছে।
[৭] ড. মো. লতিফুল বারী বলেন, কোভিড নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কিছু প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে, ফান্ডের অপেক্ষায় গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়নি। বর্তমানে টিবি হাসপতাল, আইইডিসিআর, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। [৮] তিনি আরও বলেন, গবেষণা তহবিলের সমস্যা সব জায়গায় হয়, তবে আগের তুলনায় এখন গবেষণায় বরাদ্দসহ সকল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত অনেক আগে থেকেই গবেষণা খাতকে গুরুত্ব দেওয়ায় তারা অনেকদূর এগিয়েছে।
[৯] যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম বলেন, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে করোনা পরীক্ষা শুরু করে যবিপ্রবি। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। [১০] তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজস্ব ল্যাবে করোনার পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকুয়েন্স করতে সক্ষম হয় যবিপ্রবি। এ পর্যন্ত ২২টি পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকুয়েন্স এবং শতাধিক পার্শিয়াল জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়েছে। গত ৮ মে বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ধরন বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করে যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষকদল। এছাড়া মে মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতে না গিয়েও কমিউনিটি সংক্রমণের মাধ্যমে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হওয়ার তথ্যও তারা জানায় ।
[১১] যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত কম্পলিট ও পার্শিয়াল সিকুয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে করোনার নতুন ধরনগুলো শনাক্তের কাজ করে যাচ্ছে। শুধু করোনার জিনোম সিকুয়েন্সিং নয়, করোনা আক্রান্তদের নমুনা থেকে মেটা জিনোম সিকুয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে কোইনফেকশন শনাক্ত করার কাজও করেছে তারা। [১২] ২০২০ সালে বিশ্বে সংক্রমণ সৃষ্টকারী ভাইরাসের ধরন ও মিউটেশন নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। ভ্যাক্সিনেটেড ও নন ভ্যাক্সিনেটেড রোগীদের ওপর করোনা ভাইরাসের কোনো ধরন কেমন প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে এখন গবেষণা চলছে।
[১৩] চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সেলের প্রধান ড. আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক বলেন, গবেষণায় সর্বমোট বরাদ্দ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, এর মধ্যে করোনার জন্য বিশেষ বরাদ্দ ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়, বাকি ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা অনান্য গবেষণার জন্য। ২০২০-২১ অর্থবছরে গবেষণায় বিশেষ বরাদ্দে করোনা সম্পর্কিত ৩৭টি প্রকল্প চলমান আছে। মোট ১২৪টি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ৪০টি কোভিড-১৯ সম্পর্কিত। চলমান প্রকল্পের মধ্যে ৩০টি প্রকল্পের গবেষণাপত্র জমা হয়েছে।
[১৪] তিনি আরও বলেন, গবেষণার জন্য যে তহবিল দেওয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয়। পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট, ল্যাব ম্যাটেরিয়ালস নেই। এছাড়া গবেষণা করার মতো যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা অনেক বিভাগে নেই, যা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সহযোগিতামূলক গবেষণা কম হচ্ছে, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের গবেষণা করছে, তা সমন্বয় করলে গবেষণায় ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
[১৫] চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. রবিউল ভ‚ঁইয়া বলেন, গবেষণা সেল থেকে প্রথমে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। জেনম সিকুয়েন্সিং করতে পুরো চট্রগ্রাম বিভাগের ১১টা জেলা সেম্পল সংগ্রহ করতে হয়। অর্থাৎ জেনম সিকুয়েন্সিং করা অনেক ব্যয়বহুল প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টটি দুই ভাগ ভাগ করে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকায় রিএজেন্ট, ক্যামিকেলসহ সবকিছু করা হয়। [১৬] তিনি আরও বলেন, জেনম সিকুয়েন্সের শুরুতে কিট ব্যবহার করে সুফল পওয়া যায়নি, পরবর্তী সময়ে আবার উন্নত মানের কিট নিয়ে আসা হয়। গবেষণায় নতুন করে কোনো প্রভাব না পরে সেজন্য আবার ওই ১১টি জেলায় নতুন স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়। ১১টি জেলায় ৩৩টি সেম্পলের করোনার জেনম সিকুয়েন্স করা হয়েছে, যা জার্মানির ডাটাবেজ জিআইএসএআইডি তে জমা দেওয়া হয়েছে। তারা তথ্য যাচাই করে ২ দিন পর কনফারমেশন দিয়েছে। সেখানে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে করোনার ৩৩টি জেনম সিকুয়েন্স অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
[১৭] তিনি আরও বলেন, জেনম সিকুয়েন্স নিয়ে গবেষণা করতে প্রায় ১৮-২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হয় এরপরও চ্যালেঞ্জ নিয়ে গবেষণার কাজটি শুরু করা হয়। কারণ গবেষণা ছাড়া কোনো দেশ উন্নতির শিখরে পৌছাতে পারে না।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]