প্রকাশিত: Tue, Jan 24, 2023 3:39 PM
আপডেট: Wed, Feb 8, 2023 3:54 AM

দাম্পত্যের সংজ্ঞা কী, অর্থ, বিত্ত, সৌন্দর্য নাকি কেবলই যৌনতা?

খুজিস্তা নূর-ই নাহারিন

কবি আবু জাফর ওবাইদুল্লাহর প্রথম স্ত্রী পুতুল আপাকে যেদিন প্রথম দেখেছি চোখ ফেরাতে পারিনি সহসাই। একজন নারী রূপ মেধা ব্যক্তিতে এমন দ্যুতি ছড়াতে পারে তাকে না দেখলে জানা হতো না। সঙ্গে মনে হাজারো প্রশ্ন এমন নারীকে ফেলে স্বামী কেন বন্ধুর স্ত্রীর সাথে প্রেমে মত্ত হলো, পরবর্তী সময়ে বিয়ে করে তার সাথেই সংসার বাঁধলো। এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আমার মনে শান্তি নেই। তার সমসাময়িক বন্ধুরা বেশির ভাগই ওপারের বাসিন্দা। কিন্তু আমার জানতেই হবে কি এই রহস্য। এক বন্ধুপত্নীর কাছে অবশেষে উত্তর মিললো। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ নাকি বলতেন ‘পুতুল তো দেবী, যাকে কেবলই পুঁজো করা যায় শ্রদ্ধা আর সম্মান করা যায়, একেবারে পারফেকসনিস্ট। আমার এমন একজনকে চাই যার সাথে সহজে মিশতে পারবো।’       

তার মানে দাঁড়ায়, কোনো কিছু দিয়েই দাম্পত্যকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। অর্থ, বিত্ত, সৌন্দর্য নাকি কেবলই যৌনতা? কিংবা হতে পারে সঠিক বুঝাপড়া। দাম্পত্য এক জটিল সমীকরণ, কোনো কিছুতেই মেলানো যায় না যাকে। আবার কোনো দাম্পত্যই একাধারে নিরবচ্ছিন্ন সুখের কিংবা দুঃখের হয় না। তবে কোনো স্বামী/স্ত্রী যদি পার্টনারের প্রতি আকর্ষণ হারায় অপেক্ষা ছাড়া কোনো কিছুই করার থাকে না, কারণ ফিরিয়ে আনা মুশকিল। আশে পাশের যতো রঙিন দাম্পত্য দেখি বেশির ভাগই ভেতরে ফাঁপা। একে অপরকে ঠকাচ্ছে। আবার কোনো না কোনো হিসেবের বেড়াজালে বন্দিদশা থেকে বেরোতে পারছে না। 

পরকীয়া নিয়ে প্রিয় একজন আপা আমায় লিখতে বলেছিলেন। পরকীয়া বলে আসলে কোনো শব্দ থাকা উচিত নয়। কারণ প্রতিটি প্রেমই বিশুদ্ধ এবং খাঁটি। পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পরা খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা মূলত পার্টনারের মাঝে অনুপস্থিত গুণগুলোর প্রতি আকর্ষিত হয়। কিন্তু পার্টনারের পক্ষে মেনে নেওয়া অতোটা সহজ নয়, কারণ যেকোনো উপেক্ষা বা অবহেলা অসম্মানিত করে। বারবার  প্রশ্ন জাগে আমার কি নেই যা অন্যের মাঝে খুঁজে বেড়াও? তবে অনেক পুরুষ এবং নারী আছে যারা বহুমিতায় অভ্যস্ত তাদের বেলায় কোন ফর্মুলা কাজ করবে না। মেনে না নিতে পারলে বিচ্ছেদ অবশ্যই উত্তম ।  

তবে কি এতদিনের সাজানো সংসার ভেঙে যাবে? নৈতিকতা দায়িত্ববোধ প্রতিশ্রুতির কী হবে? সন্তানদের কি হবে? হাজারো প্রশ্নের ঘোরটোপে পরে একসাথে দ্বৈত সত্ত্বার সাথে বসবাস নিজের জন্যই অস্বস্তিকর অসহনীয় মনে হতে শুরু করে। মাত্রাতিরিক্ত ব্যক্তিত্বের সংঘাত, প্রতিযোগিতা, অহংকার, দম্ভ, দখলদারিত্ব, সন্দেহ আর নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতাও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে শিথিল করে দেয়, একটা সময় পর বোঝা আর বিরক্তিকর মনে হয়। স্বামী/স্ত্রী তখন সংসারের দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে। তখন যাকে হাতের কাছে পায় তাকেই আপন মনে হয়।মনের মত হলে তো কথাই নেই। তখন ফেরানো এতো সহজ নয়। 

দাম্পত্যে বৈচিত্র্য থাকাটাও বড় জরুরি। নতুবা প্রাত্তাহিক একঘেয়ে জীবন দ্রুত আকর্ষণ হারায়। বিদেশের দাম্পত্যগুলো অনেক বেশি মুক্ত আর বাস্তববাদী। ওরা ধরেই নেয় এই সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। ওরাও কষ্ট পায় হতাশায় ভুগে কিন্তু মেনে নেয়। স্বামী/স্ত্রীকে সমাজ আর পরিবারের কথা ভেবে অনৈতিকতার আশ্রয় নিতে হয় না। সন্তানদের দায়িত্বও দু’জনার। প্রতিদিনের অসুখী দাম্পত্যের চেয়ে একা থাকাকে বেশি মূল্য দেয়। অনেক সময় নতুন সঙ্গী খুঁজে নিয়ে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখে। ফেসবুক থেকে