প্রকাশিত: Mon, Feb 5, 2024 11:43 AM
আপডেট: Thu, Feb 22, 2024 5:14 PM

যে আমাকে ভালবাসতে পারে না, আমি তাকেও ভালোবাসি

আনিসুল হক, ফেসবুক: আমি কেন হাসি? ছোটবেলায় আমি খুব শুকনো-পটকা ছিলাম। সবগুলো হাড় বেরিয়ে থাকত। মাথাটা ছিল বেঢপ বড়। আমার দাঁতগুলো ছিল বড়, আমি দাঁত ঢাকতে পারতাম না। ভাইবোনেরা আমাকে খেপাত ‘দাঁতুয়া’ বলে। আম্মা কষ্ট পেয়ে আমার হাতে লিখে রাখলেন, ‘দাঁত বন্ধ করে রাখব’। দাঁত বন্ধ করে রাখার চেষ্টা করতে আমি ভুলে যেতাম।

বুয়েটে আমি একবার নির্বাচন করেছিলাম। ইউকসু নির্বাচন। শুনতে পেলাম, ভোটাররা বলাবলি করছেন, এই ছেলেটাকে ভোট দিতে হবে। ও সারাক্ষণ হাসে। আমি বুঝতে পারলাম, যা ছিল আমার শারীরিক ত্রুটি, তাকেই আমার গুণ বানানো যাবে। আমি হাসিমুখে ভোট চাইতে লাগলাম। ছোট্ট একটা প্যানেল থেকে ইলেকশন করে ওই প্যানেলের একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী হয়ে গেলাম আমি। এরপর থেকে আমি হাসিমুখে থাকি। পরে দেখি, হাসলে আসলেই রোগশোক সারে। একবার আমার খুব মাথাব্যথা। একটা আড্ডায় গিয়ে আমরা হাসাহাসি করছি। হঠাৎ খেয়াল হলো, আমার মাথাব্যথা সেরে গেছে।

আমাকে কবি সাজ্জাদ শরিফ একটা জিনিস শিখিয়েছেন। ঈর্ষা করব না। আমি আগে আমার সমবয়সী বা সমতুল্য কারো সাফল্যে ঈর্ষায় জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যেতাম। এতে বন্ধুর সাফল্য কমত না। আমার মন পুড়ে যেত। জিভ বিস্বাদে ভরে থাকত। আমি এরপর থেকে ঈর্ষার ঊর্ধ্বে উঠতে চেষ্টা করি। আমার কাছের বা দূরের বন্ধুর সাফল্যে সবার আগে আমি ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর আনন্দকে নিজের করে তোলার চেষ্টা করি। এমন কি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, অনূর্ধ্ব ১৪ ফুটবল দল সফল হলেও।