প্রকাশিত: Tue, May 14, 2024 3:33 PM
আপডেট: Sat, May 18, 2024 11:33 PM

পূণ্যের বোন প্রিয়ম ও পরীমণির সাহস-সদিচ্ছা

ফারদিন ফেরদৌস : চিত্রনায়িকা পরীমণির নামে মামলা টামলা আছে। নিয়মিত কোর্টে হাজিরাও দিতে হয়। অবস্থাদৃষ্টে ওগুলোকে পুরুষদের পাতা ফাঁদ বিনা অন্যকিছু মনে হয় না। পরীমণির নানামুখী বদনাম। ওগুলোর হিসেবও জমা থাকে ঘুরেফিরে ওই পুরুষদেরই খেরোখাতায়। এমনতর টক ঝাল মিষ্টি মিলিয়ে একজন স্বাধীনচেতা নারী হিসেবে পরীর প্রশংসা না করে পারা যায় না। পরীমণির নিজের ছেলে সন্তান আছে। ওর নাম পূণ্য। পূণ্যের নিঃসঙ্গতা কাটাতে এবার একজন কন্যা শিশুকে দত্তক নিলেন তিনি। দত্তক নেওয়া সন্তানটিও যেন নিজের নাড়িছেঁড়া ধন এমনটাই উল্লেখ করেছেন তিনি। গণমাধ্যমকে পরীমণি জানান, আমার মেয়ে এলো ঘরে। আমার মেয়ে, সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম। এই নামেই বিশ্ব চিনবে ওকে। ছেলের পরে মেয়ে! কী যে আনন্দ! পৃথিবীতে আসার ছ’দিন হলো ওর। আমার ঘরে ছেলের পাশে আলো হয়ে আছে। আমি ওকে দত্তক নিয়েছি। নিয়ম মেনে সই করার সময় মনে হলো আল্লাহ আবার আমার জন্য কিছু করলেন। জীবনে কোনওদিন কিছু নিয়ম অনুযায়ী বা পরিকল্পনা করে করিনি আমি। তাই আল্লাহ আমার জন্য যা যা চেয়েছেন তাই মাথা পেতে নিয়েছি। 

ও পরীর মতোই আমার কোলে চলে এলো। কোলে যখন নিই, মনে হয় আমার নাভি কেটেই ও এসেছে। পরীমণি আরো বলেন, আমি যা মন থেকে চাই তাই করি। কে কী বললো সেসব নিয়ে কোনওদিন ভাবিনি। কে বলেছে, বাবা ছাড়া সন্তান মানুষ করা যায় না? কে বলেছে, জন্ম দেওয়া বাবা-মা ছাড়া সন্তান মানুষ হয় না? এই সব নিয়ম সমাজের তৈরি। এই তো আর কয়েক দিনের মধ্যেই মাতৃদিবস নিয়ে হইচই। কিন্তু সেখানেও তো পিতৃতন্ত্রের আদলে তৈরি করা মেয়েদের জয়গান। এসব কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে কাজ আর সন্তানদের নিয়ে বাঁচব আমি। এখন রাতের দিকে সব শান্ত হয়ে আসার পরে এক দিকে ছেলে আর এক দিকে ঘুমন্ত মেয়ের মাঝে যখন চোখ খুলে দেখি তখন মনে হয় পরীমণির আকাশটা বড় হয়ে আসছে। বাংলাদেশে নারীর স্বাভাবিক ও সহজাত জীবনযাপন খুব সহজ নয়। যেখানে প্রায় ৯০ ভাগ পুরুষই চায় নারীরা অবগুন্ঠিত হয়ে ঘরে থাকবে, সন্তান উৎপাদন করবে আর মন দিয়ে পতিসেবা করবে। নারী লেখাপড়া করবে না, চাকরি বাকরি করবে না। শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা কিংবা সংগীত, নৃত্য, থিয়েটার, মুভিতে নারীর নাম লেখানো মানা। নারী স্পোর্টস বা অ্যাথলেটিক্সে নামাঙ্কিত করবে না। নারীর স্বাধীন চলন পুরাই নিষিদ্ধ। এমন দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতায় সকল প্রতিকূলতা পায়ে দলে মাথা উঁচু করে পরীমণির মতো বাঁচবার প্রত্যাশাটা মানুষ হিসেবে নারীর অগ্রগতির বড় স্মারক। চড়ৎর গড়হর সাহস ও সদিচ্ছাকে শ্রদ্ধা জানাই আমরা। মা হিসেবে পরীমণি ভালো থাকুক। ভালো থাকুক পূণ্য ও প্রিয়ম। ১২ মে ২০২৪। লেখক: সাংবাদিক